স্ট্রেস থেকে মুক্তির উপায়

      Comments Off on স্ট্রেস থেকে মুক্তির উপায়
স্ট্রেস থেকে মুক্তির উপায়
5 (100%) 2 votes

স্ট্রেস হলো সাধারণ ভাবে মানসিকে চাপের ফলে আমাদের শরীরের তৈরি হওয়া একটি প্রতিক্রিয়া যেটা হতে পারে অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক। স্ট্রেস আমাদের শারীরিক এবং মানসিক ভাবে দুর্বল করে ফেলে। সাধারণ ভাবে স্ট্রেস দেহের বাইরের ও ভেতরের উভয় ফ্যাক্টরের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাইরের ফ্যাক্টরগুলো হচ্ছে ভৌত পরিবেশ। যেমন—আপনার কর্ম, অন্যের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক, আপনার বাসা প্রভৃতি। এ ছাড়া প্রতিদিন যে সমস্যাগুলো আপনি মোকাবিলা করেন, যেমন—অবস্থা, চ্যালেঞ্জ, সমস্যা ও প্রত্যাশা। ভেতরকার ফ্যাক্টরগুলো হচ্ছে আপনার দেহের স্ট্রেস প্রবৃত্তকারী ফ্যাক্টরগুলো।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

স্ট্রেস

কাজ নিয়ে এখন সবারই চিন্তা৷ চাপ৷ বর্তমানে ইঁদুর দৌড়ে সামিল সবাই৷ ফলে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চিন্তা৷ সবাই এর থেকে রেহাই পাওয়ার পথ খুঁজছে৷ কিন্তু মিলছে কই? ক্রমাগত বাড়ছে স্ট্রেস ৷ কাজের চাপের জেরে সংসারেও বাড়ছে অশান্তি৷ তাতে আরও বাড়ছে চিন্তা ও চাপ৷ তা থেকে মুক্তির উপায় কী?

খুশি কিন্তু প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে৷ সেটা শুধু খুঁজে নিতে হয়৷ হাজার চেষ্টা করেও অনেকসময় তার নাগাল পাওয়া যায় না৷ তখন অভিজ্ঞদের স্মরণাপন্ন হতে হয়৷ তবে প্রাথমিক ভাবে কয়েকটি বিষয় মেনে চললে কিন্তু স্ট্রেস মুক্ত থাকা যায়৷

চিন্তা ছাড়ুন – কোনও বিষয় নিয়ে অহেতুক চিন্তা স্ট্রেসের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়৷ যেগুলো আপনার হাতের বাইরে, সেগুলো নিয়ে চিন্তা করা ছাড়ুন৷ স্বাস্থ্যে খারাপ প্রভাব পড়বে৷ জীবন যেভাবে চলছে, চলুক৷ পরিস্থিতির চাপ মাথায় নেবেন না৷ যন্ত্রণা ও বিস্ময় জীবনর স্বাভাবিক ঘটনা৷ তাই সব কিছুকেই দুহাত তুলে স্বাগত জানান৷

সন্তুষ্ট থাকুন –  একটি প্রবাদ রয়েছে, “আমার জুতো নেই, তাই আমি কাঁদি… যতক্ষণ পর্যন্ত না দেখছি অন্যজনের পা নেই৷” ভালো করে ভাবুন তো৷ আপনি নিজের জীবনেও এটি ক্রমাগত প্রয়োগ করে চলছেন৷ যা আপনার জীবনে রয়েছে, তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকুন৷ স্বপ্ন অবশ্যই বড় দেখুন৷ কিন্তু ব্যর্থ হলে ভেঙে পড়বেন না৷ বরং ওপরওয়ালা যা আপনাকে দিয়েছে, তার জন্য ধনবাদ জানান৷

সাহায্য করুন – যার দরকার তাকে দুহাত খুলে সাহায্য করুন৷ যতটা আপনার সামর্থ৷ কাউকে একগ্লাস জল দিয়ে তৃষ্ণা নিবারণ করুন বা কুকুরকে খাওয়ান৷ দেখবেন, ভালো লাগবে৷ ভার অনেক কমবে৷

হাসুন – হাসি মানুষের প্রধান সম্পদ৷ মনকে ভারমুক্ত করতে চাই মন খুলে হাসুন৷ হাসিখুশি থাকুন সবসময়৷ আপনার হাসি অন্যকেও হাসাবে৷ অন্যরা হাসলে দেখবেন আপনিও হাসিখুশি থাকতে পারবেন৷

ধ্যান করুন – মনকে বিচলিত না হতে দেওয়া স্ট্রেস মুক্ত থাকার সবচেয়ে ভালো উপায়৷ তাই মনকে একাগ্র করতে ধ্যান করুন৷ এটি আপনার অনুভূতিকে সীমার মধ্যে রাখতে সাহায্য করে৷ যা আপনার আয়ত্ত্বের বাইরে, তার উপর আপনার নিয়ন্ত্রণ আসবে৷ নিজের উপরেও নিয়ন্ত্রণ বাড়বে৷ নেতিবাচক চিন্তাভাবনা দূরে থাকবে৷ এক্ষেত্রে আপনাকে সবথেকে বেশি সাহায্য করবে ধ্যান৷

গোসল করুন – যখন খুব বেশি মানসিক চাপ বোধ করবেন তখন সহজ সমাধান হলো গোসল করে ফেলা। শীতের সময় হলে গোসলের পানিটা হালকা গরম করে নিন। গোলাপ জল বা লেবুর রস দিয়ে পানিকে একটি সুগন্ধী করে নিলে ভালো ফল পাবেন। এমন ভাবে শরীরে পানি ঢালবেন যেন পানি মাথা বেয়ে ঘাড় ও মেরুদন্ডের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এভাবে গোসল করে নিলে মুহুর্তের মধ্যে স্ট্রেস উধাও হয়ে যায়।

নিজেকে সময় দিন – নানান ব্যস্ততায় নিজের যত্ন নেয়ার সময় কোথায়? যখন নানান ঝামেলায় ক্লান্ত হয়ে মানসিক চাপ অনুভব করবেন তখন নিজের একটু যত্ন নিন। দেখবেন অনেকটাই ভালো লাগছে। পছন্দের কোনো পার্লারে গিয়ে একটু লম্বা সময় ধরে ফেসিয়াল অথবা বডি ম্যাসাজ করিয়ে নিতে পারেন। বাসার বাইরে যেতে না চাইলে ঘরেই ফেস প্যাক তৈরি করে মুখে লাগিয়ে নিন। চোখের উপর দুটি শসার টুকরা রেখে ২০ মিনিট বিশ্রাম নিন। হালকা গরম পানিতে পায়ের পাতা চুবিয়ে রাখলেও স্ট্রেস কমে যায় অনেকটাই।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন – যখনই মনের উপর চাপ পড়বে এবং অস্থিরতা কাজ করবে তখনই বন্ধুদেরকে ফোন দিন। সবাই মিলে একটু আড্ডা দিলে টেনশন উধাও হয়ে যাবে নিমিষেই। বন্ধুরা আসতে পারছে না? চিন্তার কিছুই নেই, ফোন আর ফেসবুক তো আছেই। স্ট্রেস বোধ করলে ফোন দিন প্রিয় কোনো বন্ধুকে। মনের কথা গুলো খুলে বলে ফেলুন। অথবা আপনার টেনশন এর কারণ কিছুটা শেয়ার করে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়ে দিন। বন্ধুদের সহায়তায় আপনার স্ট্রেস হারিয়ে যাবে নিমিষেই।

ডায়রী লিখুন – বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারছেন না আবার স্ট্রেস চেপেও রাখতে পারছেন না এমন অবস্থা হলে ডায়রী লিখুন। ডায়রীতে মনের কথা গুলো গুছিয়ে লিখে ফেলুন। দেখবেন মন অনেকটাই হালকা হয়ে যাবে।

গান শুনুন – স্ট্রেস কমাতে পছন্দের গান মহাঔষধের মত। যখনই মানসিক উদ্বেগ অনুভব করবেন তখনই রুমের বাতি নিভিয়ে মোম জ্বেলে নিয়ে প্রিয় কোনো গান ছেড়ে দিন। শুনতে ইচ্ছা না করলেও কাজটা করুন। হালকা ধরনের মিউজিক হলে ভালো হয়। কিছুক্ষণ পর দেখবেন সুন্দর মিউজিক বা গানে আপনার টেনশন অনেকটাই কমে গেছে।

পছন্দের খাবার খান – অদ্ভুত শোনালেও সত্যি যে পছন্দের খাবার খেলে স্ট্রেস কমে যায়। যখন মানসিক চাপ বা স্ট্রেস বোধ করবেন তখন পছন্দের কোনো খাবার দোকানে গিয়ে মজাদার মেন্যু পছন্দ করে খেতে বসে যান। আয়েশ করে লম্বা সময় নিয়ে পেট পূজা করলে স্ট্রেস কমে যায় সহজেই।

হেঁটে আসুন – প্রচন্ড মানসিক চাপে অস্থির বোধ করলে বাসা থেকে বা অফিস থেকে বের হয়ে একটু হেঁটে আসুন। নিরিবিলি কোনো রাস্তায় একা একা কিছুক্ষণ হেঁটে আসলে স্ট্রেস অনেকটাই কমে যাবে। নিয়মিত ব্যায়াম বা মেডিটেশন করলেও টেনশন কমে যায়।

স্ট্রেস মুক্ত ও সুখী থাকার জন্য নিজেকে একটু বাড়তি যত্ন করা জরুরী। অফিস, পরিবার বা আপনজনদের জন্য কত কিছুই না করছেন, এরই ফাঁকে নিজের জন্যও করুন বাড়তি কিছু। একটু আরামের ঘুম, ভালো খাবার,নিজের সঙ্গ উপভোগ করা ইত্যাদি সবকিছুই আপনাকে রাখতে পারে টেনশন মুক্ত। কাজ থাকবেই জীবনে, কিন্তু আরামও থাকতে হবে। মেশিনের মত কেবল কাজ করে যাওয়াটা কেড়ে নেয় বেঁচে থাকার আনন্দ।

113 total views, 1 views today

পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন