সেক্স কি জানুন (সেক্স নিয়ে এ টু জেড)

      Comments Off on সেক্স কি জানুন (সেক্স নিয়ে এ টু জেড)
সেক্স কি জানুন (সেক্স নিয়ে এ টু জেড)
4.1 (82.86%) 7 votes

সেক্স মানব জীবনের এক গুরত্বপূর্ণ অধ্যায়। একটা ছেলে এবং একটা মেয়ের মধ্যে মানসিক সম্পর্ক এবং শারিরীক সম্পর্কের মাধ্যমে যে যৌন মিলন, বা অন্য আসক্তি সৃষ্টি হয় তাকে সেক্স বলে। তবে ইংরেজিতে সেক্স (Sex) কথাটার অনেক রকম মানে তৈরি হয়। আমরা যদি একে শুধু মিলন বা নারী পুরুষের দৈহিক মিলন দিয়ে বুঝাতে চাই, তাহলে কিন্তু হবে না। এমন ধরাবাধা কোনো সংজ্ঞা দিয়ে ব্যাপারটা বোঝানো যায় না। কারণ – Whether you are straight, lesbian, gay, bisexual, queer or questioning, you have the right to decide what sex means to you. মানুষের মৌলিক চাহিদার পাশাপাশি সেক্স ও একটি গুরত্বপূর্ণ চাহিদা এবং মানব জীবনের একটি গুরত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। তবে এই অভিজ্ঞতা যে কারও সাথে করা যায়না, কেননা এর মাধ্যমে দুটি মানুষের আত্মিক যোগ ঘটে। তাই বলা হয় এমন একজন মানুষের সঙ্গে এটি করতে হবে, যাকে আপনি শ্রদ্ধা করেন, আস্থা রাখেন এবং তিনিও আপনার প্রতি সেরকম শ্রদ্ধা এবং আস্থা রাখেন এবং অবশ্যই স্বামী স্ত্রী হতে হবে।

সেক্স

ক্যাজ়ুয়াল সেক্স কি

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

আধুনিক প্রযুক্তির যুগে সেক্সের ধরনে যোগ হয়েছে আরো কিছু। যেমন- রিয়েল সেক্স, ফোন সেক্স,চ্যাট সেক্স ,মাইন্ড সেক্স,সেক্স রোবট ইত্যাদি। রিয়েল সেক্স আবার দুই ধরনের যেমন: বৈধ এবং অবৈধ । স্বীয় স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে সম্পাদিত যৌনতাই বৈধ সেক্স এছাড়া অন্যান্য সকল রিয়েল সেক্সই অবৈধ যৌন সম্পর্ক ধর্মীয় কারণে। আজকালকার জেনারেশন সেক্সকে প্যাটার্নে ভাগ করেছে। ক্যাজ়ুয়াল সেক্স, ইমোশনাল সেক্স, ফ্রেন্ডলি সেক্স, ওয়ান-নাইট স্ট্যান্ড ইত্যাদি। ক্যাজ়ুয়াল সেক্স মানে প্রেমহীন সহবাস। যাকে ভালোবাসি না, তার সঙ্গে সবকিছু ভাগ করে নেওয়া (মন ছাড়া)। এতে কোনও বাধা নেই, প্রেম হারানোর ভয় নেই। শুধু আনন্দ দেওয়া নেওয়া। ব্যাপারটা একরাতের জন্যেও হতে পারে। আবার বেশ কয়েকদিন পর্যন্ত এগোতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর গড়াতে পারে। কিন্তু কারোর সঙ্গে কারোর প্রেম থাকে না থাকে যৌন সম্পর্ক। ভুলবশত একজনের মন দুর্বল হলে, অন্যজন ব্যাপারটা সেখানেই বন্ধ করে দিতে পারে। আবার ক্যাজ়ুয়াল সেক্স একই সঙ্গে অনেকের সঙ্গে হতে পারে। যেমন, কারোর সঙ্গে আলাপ হল, ভালো লেগে গেল, ব্যাস!

পুরুষের সেক্স হরমোন কি

টেস্টোস্টেরন পুরুষত্বের জন্য দায়ী প্রধান স্টেরয়েড হরমোন যা এন্ড্রোজেন গ্রুপের। মানুষ সহ সকল স্তন্যপায়ী  সরীসৃপ প্রাণী এবং পাখির শুক্রাশয়ে এটি উৎপন্ন হয়।স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রে পুরুষের শুক্রাশয় এবং নারীর ডিম্বাশয় থেকে উৎপন্ন হয়, যদিও স্বল্প পরিমাণ অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হয়। এটি প্রধান পুরুষ হরমোন যা শুক্রাশয়ের লিডিগ কোষ (Leydig Cell) থেকে উৎপন্ন হয়। টেস্টোস্টেরনের প্রভাবকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় যথা – লিঙ্গিক (virilizing) এবং অ্যানাবলিক (Anabolic)। মাংসপেশি বৃদ্ধি, হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি, হাড়ের পূর্ণতা প্রাপ্তিতে উদ্দীপনা করা – এসব অ্যানাবলিক কাজ। যৌন অঙ্গের পূর্ণতা প্রদান করা, বিশেষ করে শিশ্ন এবং শুক্রথলি তৈরি এবং বয়ঃসন্ধিকালে কণ্ঠস্বর গাঢ় হওয়া, দাড়ি এবং বগলের চুল বৃদ্ধি এসব এন্ড্রোজেনিক কাজ। এসবের অনেক কিছুই পুরুষের সেকেন্ডারি সেক্স বৈশিষ্ট্য।

মহিলাদের সেক্স হরমোন কি

মহিলাদের সেক্স হরমোনের নাম ইস্ট্রোজেন। (Estrogen) হল ( primary female sex hormone )। স্টেরয়েডধর্মী এই হরমোন স্ত্রীদেহের যৌনাঙ্গের পরিবর্তন এবং যৌন বৈশিষ্ট্যের বিকাশে সাহায্য করে । ত্বকের নীচে স্নেহ পদার্থের সঞ্চয় ঘটিয়ে এই হরমোন নারীসুলভ দেহগঠন করতে সাহায্য করে। নারীর দেহে লোমের আধিক্য এবং কোমল কন্ঠস্বরে ইস্ট্রোজেনের গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রয়েছে। মহিলাদের ইস্ট্রোজেন কে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে – ইস্ট্রোন, ইস্ট্রোডিয়ল,ইস্ট্রিওল। গড়ে ৭১% ইস্ট্রোন উৎপাদন হয়ে থাকে মহিলাদের ডিম্বাশয় থেকে, বাদবাকি ৫০% শরীরের টিস্যু এবং এড্রিন্যাল গ্ল্যান্ড থেকে উৎপাদিত হয়ে থাকে। ইস্ট্রোন পুরুষের বেলায় ও সামান্য প্রয়োজন বিধায় পুরুষের শরীর থেকে নিঃসরণ হয় কিন্তু তা খুবই সামান্য। কোন কারন বশত পুরুষের বেশী নিঃসরণ হলে উক্ত ব্যক্তির চারিত্রিক আচরণ মহিলাদের মত দেখা যায় আবার যে সকল মেয়েদের শরীরে খুবই অল্প বয়সে ইস্ট্রোন বেশী নিঃসৃত হয় তাদের বেলায় কম বয়সেই যৌবনের রুপ রেখা চলে আসে। মেডিক্যাল সাইন্স অনুসারে এটাকে পিউবারটি বলা হলেও পূর্ণ পিউবারটি পেতে একজন মেয়ের ১৬ থেকে ১৯ পর্যন্ত সময়ের প্রয়োজন। যে কোন কারণে টিস্যু গ্ল্যান্ড থেকে উৎপাদিত হরমোন কম নিঃসরণ হলে চর্মের লাবণ্যতা কমে যায় ৮১% বেলায় এবং এড্রিনাল ও ওভারী থেকে কম ইস্ট্রোন নিঃসরণ হলে মহিলাদের মানসিক বিভিন্ন জটিলতা বা যৌন অনুভূতি , উক্তেজনা, আকর্ষণ ইত্যাদি কমে যায়। মহিলাদের ঋতুচক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে মূলত দুটি হরমোন ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন।  পিরিয়ডের সময় দেহে হরমোনের ভারসাম্যে তারতম্য ঘটে। ঋতুচক্রের শুরু থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে দেহে প্রোজেস্টেরনের মাত্রা। পিরিয়ড শুরুর ৫-৭ দিন আগে দেহে প্রোজেস্টেরনের মাত্রা হয় সর্বাধিক হয়।

বেস্ট সেক্স কত মিনিটের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞরা এক সমীক্ষাতে জানিয়েছেন বেস্ট সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স ৭-১৩ মিনিটের মধ্যে হয়৷ সমীক্ষা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন সাধারণত তিন মিনিটের সেক্স পর্যাপ্ত সময় হয়৷ এই সমীক্ষা করা হয়েছিল সেক্সের জন্য আদর্শ সময় কি এটা বের করার জন্য৷ আমেরিকা ও কানাডার লোকেদের উপর সমীক্ষাতে রায় পাওয়া গেছে ৭-১৩ মিনিটের মত সময় সবচেয়ে বাঞ্ছনীয় হয়৷ সমীক্ষাতে আরও জানা গেছে ইন্টারকোর্স চলার সময় ৩-৭ মিনিট আদর্শ। সেক্সের জন্য এর থেকে কম সময়কে ‘সবচেয়ে কম সময়’ ও ১৩ মিনিটের অধিক সময়কে ‘বেশি লম্বা’ বলা হয়েছে। সমীক্ষক দলের আরও মন্তব্য পুরুষদের ক্ষেত্রে সেক্সের সময় পুরুষদের লিঙ্গ কঠোর, বড় হতে হবে এবং পুরো রাত যেন সেটা সেক্সুয়াল কার্যকারিতা জন্য তৈরী থাকতে পারে৷

সেক্স করার স্বাস্থ্যগত উপকার 

বিয়ের পর সেক্স যে শুধু যৌন তৃপ্তি পাবার জন্য তা কিন্তু না। অধিকাংশই জানেন না সেক্স করার ফলে কী কী উপকার হয়ে থাকে৷ আসুন জেনে নিই সেক্স করার স্বাস্থ্যগত উপকার ।

ভালো ব্যায়াম : স্বামী-স্ত্রীর সহবাসে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঞ্চালিত হয়৷ তার ফলে সেক্স এক প্রকার ব্যায়ামের কাজ করে৷ পাশাপাশি শারীরিক মিলনের ফলে শরীর থেকে প্রচুর ক্যালোরি খরচ হয়, ফলে কোলেস্টেরলের মাত্রা কম হয়, রক্তপ্রবাহ ভালো হয় বলে গবেষকরা জানিয়েছে৷ গবেষকরা জানিয়েছে, এক সপ্তাহ নিয়মিত হাঁটা-চলা করলে যে পরিমান ক্যালোরি খরচ হয়, সপ্তাহে তিন দিন নিয়মিত ভাবে সেক্স করলে আপনার সেই পরিমান ক্যালোরি খরচ হবে।

আরো পড়ুন – ওও কে লেখা একটি অসাধারণ প্রেমের চিঠি

ওজন কমে : সেক্সে প্রচুর পরিমান ক্যালোরি খরচ হয়, তার ফলে ব্যক্তির ওজন কমে। নিয়মিত ভাবে শারীরিক মিলনের ফলে পেটের স্থূলতা হ্রাস পায়, আর মাংসপেশীতে জড়তা কম দেখা যায়। অনেকে লক্ষ টাকা ব্যয় করেন ওজন কমানোর জন্য৷ এ ক্ষেত্রে তারা উপকার পাবেন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় : রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ক্ষেত্রে বা আমাদের ইমিয়্যুন সিস্টেম ঠিক রাখতে সাহায্য করে সেক্স। রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এটি থেরাপির মত কাজ করে, এর মাধ্যমে পাচন কার্য ঠিক হওয়ার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে৷

ব্যাথা থেকে মুক্তি : গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যৌন মিলনের ফলে মাথা এবং হাড়ের জয়েণ্টের ব্যাথার ক্ষেত্রে আরাম পাওয়া যায়। ওর্গাজমের আগে অক্সিটোসিন হরমোনের স্তর সামান্য থেকে পাঁচ গুন বেঁড়ে যাওয়ায় এণ্ড্রোফিন হরমোন নিঃসৃত হতে থাকার ফলে মাথা ব্যথা, মাইগ্রেন আর আর্থারাইটিসএর ব্যথা থেকে আরাম পাওয়া যায়৷ তাই ব্যথা কমানোর ওষুধ না খেয়ে শারীরিক মিলনের আনন্দ উপভোগ করুন আর ব্যথা থেকে নিষ্কৃতি পান।

ভালো ঘুম হয় : সেক্স করলে শরীর থেকে অক্সিটসিন হরমোন রিলিজ হয়, ফলে মিলনের পরে ঘুমও খুব ভালো হয়৷ তাই যাদের ঘুমের ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা আছে তারা অতি অবশ্যই এই পদ্ধতি অবলম্বন করে উপকার পাবেন।

কর্ম ক্ষমতা বাড়ে : সেক্স করার সময় শরীর থেকে প্রচুর পরিমানে হরমোন নিঃসরণ হয়৷ যার ফলে দু’জনেরই কার্য ক্ষমতা বাড়ে৷ পাশাপাশি নিয়মিত ভাবে শারীরিক মিলনের ফলে যৌবন বাড়ে বলেই মত গবেষকদের৷ শারীরিক মিলনের ফলে ব্যক্তি সারাদিন স্ফুর্তি অনুভব করে। সারাদিনের কাজে এই স্ফুর্তির প্রভাব দেখা যায়। এর দ্বারা সারাদিনের ক্লান্তি থেকে এবং নানা রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

সৌন্দর্য্য বাড়ে : শারীরিক মিলনের হরমোন নিঃসরনের ফলে রক্ত প্রবাহের মাত্রা বেড়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে ত্বকের ওপর। শারীরিক মিলন কালে নারীদের শরীর থেকে এস্ট্রোজেন হরমোন নিংসৃত হতে থাকে, যার দ্বারা তাদের চুল এবং ত্বক উজ্জ্বল আকর্ষনীয় হয়ে ওঠে।

যেসব খাবার খেলে সেক্স বৃদ্ধি পায়

শরীরের বিভিন্ন পুষ্টি পূরণে আমরা প্রতিদিনই অনেক ধরনের খাবার খেয়ে থাকি কিন্তু সবাই জানি কি কোন ধরনের খাবার আমাদের সেক্স বাড়াতে সক্ষম? সাধারণত খাবারে ভিটামিন এবং মিনারেলের ভারসাম্য ঠিক থাকলে শরীরে এন্ড্রোক্রাইন সিস্টেম সক্রিয় থাকে। আর তা আপনার শরীরে এস্ট্রোজেন এবং টেস্টোস্টেরনের তৈরি হওয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এস্ট্রোজেন এবং টেস্টোস্টেরন সেক্সের ইচ্ছা এবং পারফরমেন্সের জন্য জরুরি। আপনি যৌন মিলনের মুডে আছেন কিনা তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করে আপনার খাদ্য। আসুন জেনে নিই এমন কয়েকটি দৈনন্দিন খাদ্য সম্পর্কে যা আপনার শরীরে সেক্স পাওয়ার বাড়ায় বহুগুণ।

দুধ : বেশি পরিমাণ প্রাণিজ-ফ্যাট আছে এ ধরনের প্রাকৃতিক খাদ্য আপনার যৌন জীবনের উন্নতি ঘটায়। যেমন, খাঁটি দুধ, দুধের সর, মাখন ইত্যাদি। বেশিরভাগ মানুষই ফ্যাট জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে চায়। কিন্তু আপনি যদি শরীরে সেক্স হরমোন তৈরি হওয়ার পরিমাণ বাড়াতে চান তাহলে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট জাতীয় খাবারের দরকার। তবে তা হতে হবে প্রাকৃতিক এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট।

ঝিনুক : আপনার যৌনজীবন আনন্দময় করে তুলতে ঝিনুক খাদ্য হিসেবে খুবই কার্যকরী। ঝিনুকে খুব বেশি পরিমাণে জিঙ্ক থাকে। জিঙ্ক শুক্রাণুর সংখ্যা বৃদ্ধি করে এবং লিবিডো বা যৌন-ইচ্ছা বাড়ায়। ঝিনুক কাঁচা বা রান্না করে যে অবস্থাতেই খাওয়া হোক, ঝিনুক যৌন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অ্যাসপারাগাস : আপনার যৌন ইচ্ছা বাড়াতে চাইলে যেসব প্রাকৃতিক খাবার শরীরে হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখে সেগুলি খাওয়া উচিত। যৌনতার ক্ষেত্রে সবসময় ফিট থাকতে চাইলে অ্যাসপারাগাস খেতে শুরু করুন।

কলিজা : অনেকেই কলিজা খেতে একদম পছন্দ করে না। কিন্তু আপনার যৌন জীবনে খাদ্য হিসেবে কলিজার প্রভাব ইতিবাচক। কারণ, কলিজায় প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক থাকে। আর এই জিঙ্ক শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেশি পরিমাণে রাখে। যথেষ্ট পরিমাণ জিঙ্ক শরীরে না থাকলে পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে হরমোন নিঃসৃত হয় না। পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে যে হরমোন নিঃসৃত হয় তা টেস্টোস্টেরন তৈরি হওয়াতে সাহায্য করে। তাছাড়া জিঙ্ক এর কারণে আরোমেটেস এনজাইম নিঃসৃত হয়। এই এনজাইমটি অতিরিক্ত টেস্টোস্টেরোনকে এস্ট্রোজেনে পরিণত হতে সাহায্য করে। এস্ট্রোজেনও আপনার যৌনতার জন্য প্রয়োজনীয় একটি হরমোন।

ডিম : ডিম সেদ্ধ হোক কিংবা ভাজি, সব ভাবেই ডিম যৌন স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার। ডিমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-৫ ও বি-৬ আছে যা শরীরের হরমোনের কার্যক্রম ঠিক রাখে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের সকালের নাস্তায় একটি করে ডিম রাখুন। এতে আপনার শরীর শক্তি পাবে এবং যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

রঙিন ফল : যৌন স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চাইলে প্রতিদিন খাবার তালিকায় রঙিন ফলমূল রাখুন। আঙ্গুর, কমলা লেবু, তরমুজ, পিচ ইত্যাদি ফল যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত উপকারী। ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাসের মেডিকেল টিমের গবেষণা অনুযায়ী একজন পুরুষের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় অন্তত ২০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকলে তার স্পার্মের কোয়ালিটি উন্নত হয়। আবার টেক্সাসের A&M ইউনিভার্সিটির মতে তরমুজ শরীরে যৌন উদ্দীপনা বৃদ্ধি করে। তারা যৌন উদ্দীপক ওষুধ ভায়াগ্রার সাথে তরমুজের তুলনা করেছেন।

মিষ্টি আলু : মিষ্টি আলু শুধু শর্করার ভালো বিকল্পই না, মিষ্টি আলু খুব ভালো ধরনের একটি সেক্স ফুড। আপনার শরীর কোনো সবজিতে বিটা-ক্যারোটিন পেলে তা ভিটামিন-এ তে রূপান্তরিত করে। এই ভিটামিন-এ নারীদের যোনি এবং ইউটেরাসের আকার ভালো রাখে। তাছাড়া এটা সেক্স হরমোন তৈরিতেও সহায়তা করে।

মধু : যৌন দুর্বলতার সমাধানের মধুর গুণের কথা সবারই কম-বেশি জানা। তাই যৌন শক্তি বাড়াতে প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৩/৪ দিন ১ গ্লাস গরম পানিতে ১ চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে পান করুন।

রসুন : যৌন সমস্যা থাকলে এখনই নিয়মিত রসুন খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। স্মরণাতীতকাল থেকেই নারী পুরুষ উভয়েরই যৌন উদ্দীপনা বাড়াতে এবং জননাঙ্গকে পূর্ণ সক্রিয় রাখতে রসুনের পুষ্টিগুণের কার্যকারিতা সর্বজন স্বীকৃত। রসুনে রয়েছে এলিসিন নামের উপাদান যা যৌন ইন্দ্রিয় গুলোতে রক্তের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়।

চকলেট : ভালোবাসা ও যৌনতার সঙ্গে সবসময়ই চকলেটের একটা সম্পর্ক রয়েছে। এতে রয়েছে ফেনিলেথিলামিন (পিইএ) ও সেরোটোনিন। এ দুটি পদার্থ আমাদের মস্তিষ্কেও রয়েছে। এগুলো যৌন উত্তেজনা ও দেহে শক্তির মাত্রা বাড়াতে সহায়ক।

কলা : কলার রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি ও পটাশিয়াম। ভিটামিন বি ও পটাশিয়াম মানবদেহের যৌনরস উৎপাদন বাড়ায়। আর কলায় রয়েছে ব্রোমেলিয়ানও। যা শরীরের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়াতেও সহায়ক। আর সর্বোপরি কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ শর্করা যা আপনার দেহের শক্তি বৃদ্ধি করে। ফলে দীর্ঘসময় ধরে যৌন মিলনে লিপ্ত হলেও আপনার ক্লান্তি আসবে না।

আরো পড়ুন – নারী দেহ ভোগ কি মডার্ন কালচার প্রেম

ভিটামিন সি জাতীয় ফল : যৌন স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চাইলে প্রতিদিন খাবার তালিকায় রঙিন ফলমূল রাখুন। আঙ্গুর, কমলা লেবু, তরমুজ, পিচ ইত্যাদি ফল যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত উপকারী। গবেষণা দেখা গেছে, একজন পুরুষের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় অন্তত ২০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকলে তার স্পার্মের কোয়ালিটি উন্নত হয়।

গরুর মাংস : গরুর মাংসে প্রচুর জিঙ্ক থাকে। তাই আপনি যৌন জীবনকে আরো আনন্দময় করতে কম ফ্যাটযুক্ত গরুর মাংস খান। যেমন গরুর কাঁধের মাংসে, রানের মাংসে কম ফ্যাট থাকে এবং জিঙ্ক বেশি থাকে। এইসব জায়গার মাংসে প্রতি ১০০ গ্রামে ১০ মিলিগ্রাম জিঙ্ক থাকে।

তৈলাক্ত মাছ : তৈলাক্ত মাছে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড যা সুস্থ যৌন জীবনের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সামুদ্রিক মাছেও প্রচুর পরিমাণে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড থাকে। ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড DHA O EPA শরীরে ডোপামিন বাড়িয়ে দেয় এবং মস্তিষ্কে উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলে। তৈলাক্ত ও সামুদ্রিক মাছ খেলে শরীরের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং গ্রোথ হরমোনের নিঃসরন হয়। ফলে যৌন স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

অ্যাভোকাডো : অ্যাভোকাডোকে এর আকৃতির কারণে একে নারী ফল হিসেবে দেখা হয়ে থাকে। তবে শুধু এর আকৃতিই আকর্ষণীয় না, এতে প্রচুর ভিটামিন বি-সিক্স এবং পটাসিয়াম থাকে। এর ফলে এটা খেলে আপনার যৌন ইচ্ছা এবং যৌন সামর্থ্য বৃদ্ধি পায়। এই ফলের এই নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যটির কারণে একে স্প্যানিশরা নিষিদ্ধ করেছিল।

ওটমিল : ওটমিলে প্রচুর পরিমাণে ফাইটোস্ট্রোজেন থাকে। যেসব দানা জাতীয় শশ্যে আবরণ থাকে তাদের মধ্যে এই গুণটি রয়েছে। যেমন গম, চাল, রাই ইত্যাদি। ফাইটোস্ট্রজেন আপনার যৌন জীবনের জন্য খুবই কার্যকরী।

পালং শাক ও অন্যান্য সবজি : পালং শাকে আছে প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম। ম্যাগনেসিয়াম শরীরে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে। জাপানের গবেষকদের মতে শরীরে রক্ত চলাচল বাড়লে যৌন উদ্দীপনাও বাড়ে। পালং শাক ও অন্যান্য বিভিন্ন রকম শাক,ব্রকলি, লেটুস, ফুলকপি, বাঁধাকপি এগুলোতে রয়েছে ফলেট, ভিটামিন বি সহ অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলো সুস্থ যৌন জীবনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিছু উপাদান।

বাদাম ও বিভিন্ন বীজ : কুমড়োর বীজ, সূর্যমূখীর বীজ, চিনা বাদাম, কাজু বাদাম, পেস্তা বাদাম ইত্যাদিতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে এবং এগুলো শরীরে উপকারী কোলেস্টেরল তৈরী করে। সেক্স হরমোন গুলো ঠিক মতো কাজ করার জন্য এই কোলেস্টেরল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই প্রতিদিন অল্প করে হলেও বাদাম খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে আপনার যৌন স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। শিমের বীচিতে প্রচুর ফাইটোস্ট্রোজেন থাকে। এটা আপনার যৌন ইচ্ছা এবং যৌন সামর্থ্য বাড়ায়। জাপানিরা যৌন ইচ্ছা বাড়ানোর জন্য খাবারে প্রচুর শিমের বীচি ব্যবহার করে থাকে। চীনা বাদামে প্রচুর জিঙ্ক থাকে। এই জিঙ্ক শুক্রাণুর সংখ্যা বাড়ায় এবং শক্তিশালী শুক্রাণু তৈরি করে। জিঙ্ক কম থাকলে শরীরে শতকরা ৩০ ভাগ কম বীর্য তৈরি হয়। যারা খাদ্যের মাধ্যমে শরীরে কম জিঙ্ক গ্রহণ করে তাদের বীর্য এবং টেস্টোস্টেরনের ঘনত্ব দুটিই কমে যায়। ওটমিল এবং কুমড়ার বীচির মত সূর্যমুখীর বীজ হরমোন বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে আপনার যৌন আকাঙ্ক্ষাও বাড়ে। সূর্যমূখীর বীজে যে তেল থাকে তা এই কাজটি করে। কুমড়ার বীচি জিঙ্ক-এর অন্যতম সেরা প্রাকৃতিক উৎস। এই জিঙ্ক টেস্টোস্টেরোনের মাত্রা বাড়ায়। যৌন ইচ্ছা বাড়ানোতে কুমড়ার বীচির কার্যকারিতা অনেক।

কফি : কফি আপনার যৌন ইচ্ছা বাড়ানোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কফিতে যে ক্যাফেইন থাকে তা আপনার যৌনতার মুড ঠিক রাখে।

ট্রাফল (এক ধরনের ছত্রাক) : ট্রাফলে পুরুষের যৌন হরমোনের মত এক ধরনের উপাদান থাকে। কিছু কিছু খাবারে ট্রাফলের এই বিশেষ কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। যার ফলে, নারীদের পুরুষের প্রতি লিবিডো বা যৌন আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পায়।

জয়ফল : ভারতীয় গবেষকদের মতে, জয়ফল থেকে এক ধরনের কামোদ্দীপক যৌগ নিঃসৃত হয়। সাধারণ ভাবে এই যৌগটি স্নায়ুর কোষ উদ্দীপিত করে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে আপনার সেক্স পাওয়ার বৃদ্ধি পায়। আপনি কফির সাথে মিশিয়ে জয়ফল খেতে পারেন, তাহলে দুইটির কাজ একত্রে পাওয়া সম্ভব।

2,504 total views, 4 views today

পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন