কিছু কথা গোপন রাখাই ভালো

      Comments Off on কিছু কথা গোপন রাখাই ভালো
কিছু কথা গোপন রাখাই ভালো
5 (100%) 9 votes

কিছু কথা গোপন রাখা ভালো। নিজের সব কথা কি সবাইকে বলা যায়? না, যায় না। কিছু কথা থাকা প্রয়োজন শুধু নিজের মধ্যে। আপনার আশেপাশে সবাই আপনার বন্ধু নয়। সব মানুষ সব কিছুকে ইতিবাচক ভাবে গ্রহণ করে না। তাই নিজেকে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই নিজের ব্যক্তিত্বে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বা লক্ষ্য অর্জনে বাঁধা হতে পারে এমন কিছু কথা সবার সাথে শেয়ার করা উচিৎ নয়। আসুন জেনে নিই, নিজের কোন কথাগুলো রাখতে হবে গোপন, সবসময়।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

কিছু

নিজের লক্ষ্যের কথা – প্রতিটি মানুষের জীবনেই কিছু লক্ষ্য থাকে। আপনার জীবনের লক্ষ্য কি তা নিয়ে হয়ত প্রায়ই বন্ধুদের সাথে গল্প হয়। কিন্তু খেয়াল করুন, সবার কি এই বিষয় গুলো জানার প্রয়োজন আছে? আপনার লক্ষ্য, আপনার সফলতা, ব্যর্থতা দিয়ে কেউ যেন আপনাকে বিচার করতে না পারে সেই দিকে আপনাকেই খেয়াল রাখতে হবে। কখনো কখনো এটি মারাত্মক ক্ষতিকারক হতে পারে। আপনার প্রতিযোগীরা আপনার বিপক্ষে লড়বার অস্ত্র পেয়ে যেতে পারে এভাবেই।

শারীরিক দূর্বলতার কথা – আপনার কোন শারীরিক দূর্বলতা, কোন অপারেশন হয়ে থাকলে বা কোন দূর্ঘটনায় কোন ক্ষতি হয়ে থাকলে সেটা সবাইকে জানাবেন না। মানুষ আপনার অক্ষমতা হিসেবে সেটাকে ব্যবহার করতে পারে। নিজের সুরক্ষার জন্যই এমন কিছু কথা গোপন রাখুন।

নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক কথা – আপনি হয়তো আপনার অনেক খারাপ দিক খুঁজে পান। আপনি জানেন, আপনার মনোযোগের অভাব আছে। অথবা আপনি অনেক সহজে মানুষকে বিশ্বাস করেন আর বিশ্বাস করে প্রায়ই ঠকেন। এসব কথা, ঘটনা কখনো অন্যের সাথে শেয়ার করবেন না। আপনি যখন নিজের দূর্বলতা গুলো জানেন তখন তার প্রতিকারও আপনি নিজেই বের করতে পারবেন। একজন ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলুন এবং অন্যদের কাছ থেকে নিন নিজের চমৎকার গুণের স্বীকৃতি। কেউ যেহেতু আপনাকে বদলে দিতে পারবে না, তাহলে কেন তাকে সুযোগ দেবেন আপনার সম্পর্কে কিছু নেতিবাচক ধারণা পোষণ করার?

অন্যের গোপনীয়তা গোপন রাখা – নিজের দুই একটা গোপন কথা সঙ্গীকে বলা যায় অনায়াসেই। কিন্তু অন্য কোনো বন্ধু যদি তার কোনো গোপন কিছু কথা বিশ্বাস করে বলে থাকে তবে তা সঙ্গীকে জানানো অনুচিত। এতে একদিকে তো বন্ধুর গোপনীয়তা ভঙ্গ হয় এবং তার অবিশ্বাস অর্জন হয়। পাশাপাশি সঙ্গীও একটা তথ্য পেয়ে যায় যে গোপনীয়তা রক্ষার মতো মানসিক দৃঢ়তার অভাব আছে। এ থেকে সেও কিছুটা বিশ্বাস হারাতে পারে। তাই নিজের সম্মান রক্ষার্থেই তা গোপন রাখতে হবে।

ব্যক্তিগত আয় ব্যয়ের হিসাব – একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ যিনি নিজের আয়ে চলেন তিনি কী করবেন কীভাবে ব্যয় করবেন এর সিদ্ধান্ত একান্তই তার নিজের হওয়া উচিত। পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ এবং সঞ্চয়ের পরে তার নিজস্ব প্রয়োজনীয় বা শখের বিষয়ে তিনি কিছু অর্থ ব্যয় করতেই পারেন। সেটা যত তুচ্ছই হোক এই বিষয়ে অনধিকার চর্চা করা ঠিক না। তারপরও যদি কেউ এইসব বিষয়ে চর্চা করে থাকেন তবে নিজের ব্যক্তিগত কিছু শখ এবং প্রয়োজনীয় খরচের বিষয় সঙ্গীর কাছে লুকানো দোষের কিছু না। এথেকে অহেতুক হস্তক্ষেপ এবং সন্দেহ থেকে বাঁচা যাবে।

পরিবারের কথা – আপনার পরিবারে কী ভাল আর কী মন্দ, সবার সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন, এমন কিছু কথা ভুলেও বাহিরের মানুষের সাথে বলতে যাবেন না। এতে আপনার ভাবমূর্তি তো নষ্ট হবেই, আপনার পরিবারের ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন হবে। এমনকি ভাল কথা, যেমন ‘আমার বাবা আমাকে অনেক ভালবাসেন’ এই তথ্যও দুষ্কৃতিকারীদের কাছে খুব কাজের হতে পারে। নিজের গন্ডি বুঝুন, কিছু কথা গন্ডির মাঝেই রাখুন।

কত আয় করেন – আপনি কত আয় করেন সেটা কখনো অন্যদের জানাবেন না। নিজের আর্থিক সংকট তুলে ধরা আপনাকে অন্যের কাছে ছোট করে দেবে। আবার অর্থের প্রাচুর্য্য প্রকাশ কিছু সুবিধাবাদি মানুষকে আপনার বন্ধু করবে। শুধু নিজের নয়, পরিবারের আয় আর্থিক অবস্থা কখনোই বাইরে বলবেন না।

বেডরুমের কথা – আপনার বেডরুমের কথা আপনার একান্ত ব্যাক্তিগত বিষয়। সেটা কখনোই অন্যদের সামনে খুলে বলবেন না। আপনার সঙ্গীর সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন, সেক্স লাইফে আপনি সন্তুষ্ট কিনা এগুলো আপনার এবং আপনার সঙ্গীর নিজস্ব ব্যাপার। অন্যদের সাথে শেয়ার করে আপনি আপনার সঙ্গীর গোপনীয়তা ভংগ করবেন না।

স্বামীর কাছে কিছু কথা গোপন নারী

নারীর মন নাকি দেবতারাও বোঝেন না, তাহলে স্বামী পুরুষ বুঝবেন কীভাবে? সত্যি বলতে কী, মেয়েদের যতই দুর্নাম থাকুক বেশী কথা বলার জন্য, এমন কিছু কথা আছে যেগুলো মেয়েরা নিজের স্বামীকে কখনোই বলেন না। নিজের প্রেমিক পুরুষ, নিজের অতীত, নিজের মনের ভাব ইত্যাদি সম্পর্কে এমন কিছু কথা আছে যেগুলো মেয়েরা স্বামীর কাছে সবসময়েই গোপন করে যান। চলুন, জেনে নিই এমন কিছু কথা।

▪নিজের অতীতের ব্যাপারে মেয়েরা কখনোই ১০০ ভাগ কথা স্বামীকে বলেন না। বরং কেবল সেটুকুই বলেন, যেটুকু জানা থাকলে সম্পর্কে বড় ধরণের কোন সমস্যা হবে না। প্রতিটি মেয়েই নিজের অতীতের ব্যাপার কিছু না কিছু সত্য গোপন করেই থাকেন।

▪মেয়েরা নিজের প্রথম প্রেমকে কখনো ভুলতে পারেন না, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রথম প্রেমের জন্য আজীবন একটা গোপন আবেগ লালন করেন মনের গহীনে। কখনো কখনো গোপনে অতীতের মানুষটির খোঁজখবর করেন, যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই ব্যাপারটি স্বামীকে কখনোই জানাতে চান না তাঁরা।

▪মেয়েরা কখনোই নিজের বান্ধবীদের সম্পর্কে সব সত্য কথা স্বামীকে বলেন না। বরং বেশী সুন্দরী বান্ধবীদের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত কথাবার্তা বলেন যেন স্বামী তাঁদের ব্যাপারে আগ্রহী না হন। বান্ধবীদের ব্যাপারে স্বামীকে কিছু জানাতে নারাজ প্রায় সব মেয়েরাই।

▪নিজের আত্মীয় ও বান্ধবীদের সামনে স্বামীকে নিয়ে গর্ব করতে ভালোবাসেন সব নারীই এবং প্রচুর করেনও। কিন্তু স্বামীকে এই বিষয়টি জানাতে চান না কোনমতেই।

▪অন্য পুরুষেরা আগ্রহ নিয়ে তাকালে বা প্রশংসা করলে প্রতীক নারীই খুশি হয়ে ওঠেন, কিন্তু স্বামীর সামনে এই ভাবটি মোটেও প্রকাশ করেন না তাঁরা। বরং কিঞ্চিত বিরক্তিই প্রকাশ করেন।

▪স্বামীকে যতই বিশ্বাস করুক না কেন, চোখের অন্তরালে একটু আধটু গোয়েন্দাগিরি সব মেয়েই করেন। ফোন ঘেঁটে দেখা বা ফেসবুক চেক কর, একটু সন্দেহের নজরে রাখে ইত্যাদি মেয়েদের সহজাত। এই বিষয়টি আসে হারানোর ভয় থেকে।

▪নিজের শাশুড়িকে যতই অপছন্দ করুক না কেন, এই ব্যাপারটি স্বামীকে কখনোই বুঝতে দিতে চান না মেয়েরা। আর যদি শাশুড়ি বউয়ের মাঝে কিছু সমস্যা থাকে, তাহলে সকল মেয়েই স্বামীর কাছে নিজের দোষ রেখে ঢেকেই রাখেন।

▪কোন মানুষই পারফেক্ট নন। বলাই বাহুল্য কোন নারীও না। কিন্তু স্বামীর সামনে নিজেকে পারফেক্ট দেখাতেই ভালোবাসেন মেয়েরা। কখনোই নিজের দোষত্রুটি, নিজের বাবার বাড়ির বদনাম বা নিজের কিছু বদ অভ্যাস স্বামীকে জানতে দিতে চান না মেয়েরা, বরং সযতনে গোপন করেন।

245 total views, 2 views today

পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন